ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘গোটা দেশটাকেই উড়িয়ে দেব নাকি?’

ডেস্ক রিপোর্ট   |   সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   1 বার পঠিত

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘গোটা দেশটাকেই উড়িয়ে দেব নাকি?’

ইরানকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা কিংবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর—যেকোনো পথ বেছে নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘গোটা দেশটাকেই উড়িয়ে দেব নাকি? দিলে কখন দেব?’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান নিয়ে তিনি এখন ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুডে’ রয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতে ‘অনেক বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে শনিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই ক্যাম্প ডেভিড থেকে হোয়াইট হাউসে ফেরেন ট্রাম্প। এরপর থেকেই ইরান নিয়ে তার পরবর্তী পদক্ষেপ ঘিরে জল্পনা শুরু হয়।

ইরানকে নিয়ে এর আগেও একাধিকবার কঠোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। দেশটিতে বোমা হামলা চালিয়ে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের মধ্যেই ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত করার পাশাপাশি দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদেরও লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ বলেছেন, শত্রুদের মোকাবিলায় ইরানকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে অর্জনগুলো ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে। যুদ্ধের অবসান নিয়ে এর আগে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও পড়ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী।

এদিকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানিও চাপে পড়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫০ ডলারের ওপরে উঠে নতুন রেকর্ড করেছে। নিয়মিত পেট্রলের দামও প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৭ ডলারে পৌঁছেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় হয়েছে অন্তত ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ব্যবহৃত বোমা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ অস্ত্রের মজুত পূরণে পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে ২৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামো মেরামতের ব্যয় এই হিসাবে ধরা হয়নি।

এখন ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান। একদিকে নতুন হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অন্যদিকে ট্রাম্প বলছেন, শিগগিরই ‘অনেক বড় কিছু’ ঘটতে পারে।

সূত্র: ইউএসএ টুডে

Facebook Comments Box

Posted ৮:৩০ এএম | সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।